1. news.infotreat@gmail.com : admin :
  2. iftesyfunmarjan@gmail.com : ifte syfun : ifte syfun
  3. shahedshafiq24@gmail.com : Shahed Shafiq : Shahed Shafiq
  4. tanzinaislam00@gmail.com : tanin tanin : tanin tanin
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদকের সৌজন্য সাক্ষাৎ ১৩ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব ইইউ কমিশনের পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ফেরতে ভারতের সহযোগিতা চাইলো বাংলাদেশ এবার সৌদি আরব ভ্রমণে নিজ নাগরিকদের সতর্কতা জারি করলো যুক্তরাষ্ট্র আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ অধ্যায়, মেসির বিদায়ী ম্যাচ ৬ অক্টোবর মমতার একসময়ের ঘনিষ্ঠ দেবের বাড়িতে শুভেন্দু অধিকারী ফ্যাটি লিভার কি সত্যিই ঠিক হয়, ২১ দিনের সহজ পরিকল্পনা দিলেন চিকিৎসক অনুমোদন পেল ৩ মেট্রো রেল প্রকল্প সংসদ ভবনের সামনে শিক্ষিকার মৃত্যু: ছিনতাইকৃত মালামালসহ ২ আসামি গ্রেফতার ৪ দিনের সরকারি সফরে জাপান গেলেন সেনাপ্রধান

সংকুচিত হচ্ছে শ্রমবাজার, কোথায় যাবে বাংলাদেশি শ্রমিক?

  • আপডেট সময় : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৯ বার পঠিত

বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ইতিহাস প্রায় পাঁচ দশকের। ১৯৭৬ সালে শুরু হওয়া এই যাত্রা নব্বইয়ের দশকে গতি পায়। বৈদেশিক কর্মসংস্থানের এই জোয়ার সচল করে দেশের অর্থনীতির চাকা। রেমিটেন্স হয়ে ওঠে দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই পাঁচ বছরের প্রতি বছর গড়ে ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে গেছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৩ লাখের বেশি কর্মী গিয়েছেন ২০২৩ সালে।

২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫ বছরে ২০৩টি দেশে ১ কোটি ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী গেছেন। শুনতে বড় এই সংখ্যার আড়ালেই রয়েছে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের বড় দুর্বলতা। কারণ এত বিশাল জনশক্তির প্রায় ৭৯ শতাংশই গিয়েছেন মাত্র পাঁচটি দেশে। ১০ দেশ মিলিয়ে যার পরিমান প্রায় ৯৪ শতাংশ। যার অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্যে। এর বাইরে ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের বাকি দেশগুলোতে স্থান হয়েছে মাত্র ৬ শতাংশ বাংলাদেশী কর্মীর।

বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ২০৩টি দেশে কর্মী পাঠায় বাংলাদেশ। কিন্তু জনশক্তি রফতানির পরিসংখ্যানগুলো বলছে, বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান কার্যত নির্ভরশীল সৌদি আরব, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কুয়েত, জর্ডান, বাহরাইন ও মালদ্বীপসহ এশিয়া বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য নির্ভর। কিন্তু সেখানেও পড়েছে অনিশ্চয়তার ছাপ। কারণ সেই দেশগুলোর শ্রমবাজার এখন আর আগের মতো নেই। বড় বড় শ্রমবাজার বন্ধ বা সংকুচিত হওযায় বাংলাদেশীদের জন্য কমছে বৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ। অথচ দেশে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানান কারণে বিদেশ যাওয়ার আগ্রহ বরং বেড়েই চলেছে বাংলাদেশিদের।

তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে মালয়েশিয়ায় গেছেন ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি। কিন্তু অনিয়মের কারণে ২০২৪ সালের জুনে বন্ধ হয়ে যায় দেশটির শ্রমবাজার। ওমানে ২০২৩ সালে ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি গেলেও ২০২৪ সাল থেকে কার্যত বন্ধ এই শ্রমবাজারও। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০২৩ সালে গেছেন প্রায় ১ লাখ বাংলাদেশি। ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা নেমে আসে ৪৭ হাজারে। ২০২৫ সালে দেশটিতে যেতে পেরেছেন মাত্র ১৩ হাজার ৭৫০ জন শ্রমিক। বাহরাইনের বাজারও দীর্ঘদিন ধরে সীমিত বা বন্ধ। কমেছে লেবাননে কর্মী যাওয়ার সংখ্যাও। ফলে একের পর এক বড় শ্রমবাজার হারিয়ে বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের চাপ এখন পড়ছে হাতে থাকা অল্প কয়েকটি বাজারের ওপর।

এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ সৌদি আরব। কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশিদের জন্য এটিই প্রধান শ্রমবাজার। ২০২৪ সালে সৌদি আরবে গেছেন ৬ লাখ ২৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি। ২০২৫ সালে ৭ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি। কিন্তু চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সৌদি আরবে ঠাই হয়েছে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার। তাও আবার সেখানে গিয়ে চুক্তি অনুযায়ী কাজ না পাওয়া কিংবা কাজের তুলনায় অতিরিক্ত কর্মী যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এটি সবচেয়ে বড় এই শ্রমবাজারেও এখন অনিশ্চয়তা তৈরির লক্ষণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই সংকটের প্রভাব দেখা যাচ্ছে সামগ্রিক পরিসংখ্যানেও। বিএমইটির হিসাবে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ কর্মীকে বিদেশ যাওয়ার ছাড়পত্র দিয়েছেন তারা। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ছাড়পত্র নেওয়া কর্মীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার।

একদিকে কমছে বিদেশে যাওয়ার বৈধ সুযোগ, অন্যদিকে দেশের ভেতরেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় বিদেশমুখী মানুষের আগ্রহের নেই কমতি। তাই এই চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠছে প্রতারণার বাজার। নতুন শ্রমবাজারের নামে সামনে আসা কম্বোডিয়া ও রাশিয়াকে ঘিরেই এই প্রতারণার জাল পাতছে প্রতারক চক্র।

বিএমইটির তথ্যমতে, ২০২৫ সালে কম্বোডিয়া যেতে ছাড়পত্র নিয়েছেন ১২ হাজার ২৬৩ জন বাংলাদেশি। সম্প্রতি দেশটি উঠে এসেছে বাংলাদেশের অষ্টম শ্রমবাজার হিসেবে। অপরদিকে ১৩তম শ্রমবাজারের অবস্থান দখল করেছে রাশিয়া। গত বছর রাশিয়া যেতে ছাড়পত্র নিয়েছেন ৪ হাজার ৭২৭ জন বাংলাদেশী। কিন্তু কম্বোডিয়ায় যাওয়া
কিন্তু কম্বোডিয়ায় নিয়ে এসব শ্রমিকদের অনলাইন স্ক্যাম সেন্টারে এবং রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধে লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গেল জুন কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টারে অভিযান শুরু হলে দেশে ফিরেছেন ৬৪৬ বাংলাদেশি। আরও অনেকেই রয়েছেন ফেরার অপেক্ষায়। অপরদিকে গত মার্চ পর্যন্ত রাশিয়ায় যুদ্ধে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৪ বাংলাদেশী। ফলে সেখান থেকেও দেশে ফেরার আকুতি জানাচ্ছেন অনেকেই।

ইউরোপমুখী অভিবাসনের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। ইতালিতে যাওয়ার আশায় বাংলাদেশিরা বিভিন্ন দেশ হয়ে পৌঁছাচ্ছেন লিবিয়ায়। সেখানে প্রতারণা, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে অহরহ। এরপর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে মৃত্যু ও নিখোঁজের ঘটনাতো আছেই।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত লিবিয়া হয়ে ইতালিতে পৌঁছেছেন ৩ হাজার ৬৯১ জন বাংলাদেশী। অথচ ২০২৫ সালে লিবিয়ায় যেতে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ছাড়পত্র নিয়েছিলেন মাত্র ১০০ জন। এ বছর এখন পর্যন্ত ৬৩ জন। অর্থাৎ বৈধ শ্রমবাজারের বাইরে অন্য দেশের পথ ব্যবহার করেই ইউরোপমুখী হচ্ছেন বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে প্রতারক ও মানবপাচারকারী চক্র।

দেশের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত রিক্রুট এজেন্সি থাকা ও জনশক্তি নিয়োগব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতার কারণে প্রতারণার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মন্তব্য বিশেজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতে যেখানে ভারতে রিক্রুটিং এজেন্সি ১৯২টি সেখানে বাংলাদেশে বর্তমানে ২ হাজার ৬৪৬টি।

বিশেষজ্ঞরা আরো বলছেন, বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে পাঁচ বছরে ১ কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। প্রতারণা ও ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি দক্ষ কর্মীদের আন্তর্জাতিক সনদ দেওয়ার ব্যবস্থাও সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু শ্রমবাজার যখন কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরশীল, সেই বাজারগুলো যখন একের পর এক সংকুচিত হচ্ছে, তখন শুধু কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নতুন শ্রমবাজার, দক্ষ কর্মী, যেই চাকরির কথা বলে একজন কর্মীকে বিদেশ পাঠানো হচ্ছে, সেটি সত্যিই আছে কি না, তা নিশ্চিত করা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2026 NEWS NOW BD
Theme Customized By Shakil IT Park