ত্বকের অন্যতম সাধারণ সমস্যা হলো ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এগুলোকে বলা হয় ‘কমেডোনস’।
দেখতে প্রায় একই রকম মনে হলেও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এদের ধরন ও কারণ আলাদা। ত্বকের ভেতরের সেবাম বা অতিরিক্ত তেল এবং মৃত কোষ যখন লোমকূপে আটকে যায়, তখনই এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। তবে সঠিক নিরাময়ের জন্য এদের পার্থক্যের জায়গাটি বোঝা অত্যন্ত জরুরি।
ব্ল্যাকহেডস : এই ক্ষেত্রে লোমকূপের মুখ উন্মুক্ত বা খোলা থাকে।
ফলে ভেতরে আটকে থাকা তেল ও মৃত কোষ বাইরের বাতাসের সংস্পর্শে এসে রাসায়নিক বিক্রিয়া (অক্সিডেশন) ঘটায় এবং কালো রঙ ধারণ করে। এটি মূলত বাইরের ধুলোবালি নয়, বরং তেলের রাসায়নিক পরিবর্তনের ফল।
হোয়াইটহেডস : এক্ষেত্রে লোমকূপের মুখটি ত্বকের পাতলা স্তর দিয়ে ঢাকা থাকে। বাতাস ভেতরে প্রবেশ করতে না পারায় কোনো অক্সিডেশন ঘটে না, ফলে ভেতরের উপাদানগুলো সাদা বা হালকা হলদে দানার মতো দেখায়।
লোমকূপের মুখ বন্ধ থাকায় এতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটতে পারে, যা পরবর্তীতে যন্ত্রণাদায়ক ব্রণে রূপ নেয়।
সমস্যার প্রধান কারণসমূহ :
১. হরমোনের তারতম্য : বয়ঃসন্ধি, গর্ভাবস্থা বা মাসিকের সময় শরীরে অ্যান্ড্রোজেন হরমোন বাড়লে সেবাম বা তেলের নিঃসরণ বেড়ে যায়।
২. অনুপযোগী প্রসাধনী : অতিরিক্ত ভারী মেকআপ বা কমেডোজেনিক প্রসাধনী ব্যবহারের ফলে লোমকূপের মুখ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
৩. অনিয়মিত এক্সফোলিয়েশন : ত্বক থেকে নিয়মিত মৃত কোষ না ঝরলে তা তেলের সাথে মিশে লোমকূপে জমাট বাঁধে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সঠিক পরিচর্যা :
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নখ দিয়ে এগুলো খুঁটলে বা চাপ দিলে ত্বকে ইনফেকশন ও স্থায়ী গর্ত তৈরি হতে পারে।
ভুল প্রসাধনী ব্যবহার না করে উপাদানের ওপর নির্ভর করে সঠিক রূপচর্চা করা উচিত :
ব্ল্যাকহেডসের জন্য স্যালিসিলিক অ্যাসিড : এটি চর্বিতে দ্রবণীয় হওয়ায় লোমকূপের গভীরে ঢুকে শক্ত তেল ও ব্ল্যাকহেডস গলাতে সাহায্য করে। ২% স্যালিসিলিক অ্যাসিডযুক্ত ফেসওয়াশ বা সিরাম ব্যবহার করা যেতে পারে।
হোয়াইটহেডসের জন্য আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড : গ্লাইকোলিক বা ল্যাক্টিক অ্যাসিড ত্বকের ওপরের মৃত কোষের স্তর সরিয়ে হোয়াইটহেডস বের হতে সাহায্য করে।
কোষ পুনর্গঠনে রেটিনয়েডস : রেটিনয়েডস ত্বকের কোষ পুনরুজ্জীবিত ও পুনর্গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
Leave a Reply