রাতে ভালো ঘুম হলে তা হতাশা ও বিষন্নতা কমাতে পারে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। আর ঘুমের ঘাটতি মানুষকে তাড়াতাড়ি দুর্বল করে দিতে পারে। তবে সন্ধ্যার হালকা ব্যায়াম এবং উন্নত ঘুমের মানের মধ্যে একটি সরাসরি সংযোগ রয়েছে।
এমনটাই জানিয়েছে ঘুম বিশেষজ্ঞ ড. ওয়েন্ডি ট্রক্সেল। ফক্স নিউজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি এসব বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
সন্ধ্যার ছোটখাটো শারীরিক ক্রিয়াকলাপ কীভাবে ঘুমের ধরনকে উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে তা নিয়েই আজকের প্রতিবেদন। চলুন জেনে নেওয়া যাক।
হালকা ব্যায়ামের উপকারিতা
সন্ধ্যায় হালকা ব্যায়াম শরীরকে আরাম দিতে সাহায্য করে এবং শরীরকে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত করে তোলে। তবে ভারী ব্যায়াম করলে তা ঘুমকে ব্যাহত করতে পারে। তার বিপরীতে হালকা ব্যায়াম মানসিক চাপ কমিয়ে আরাম দেয়।
শারীরবৃত্তীয় সুবিধা
হালকা ব্যায়াম শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা বায়োলজিকাল ক্লককে নিয়মিত করে এবং মেলাটোনিন নামক হরমোনের ক্ষরণকে উৎসাহিত করে।
এই হরমোনটি ঘুমের সূচনা ও ভালো ঘুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ব্যয়ামের মধ্যে স্ট্রেচিং, যোগব্যায়াম বা ছোট সন্ধ্যাকালীন হাঁটা সবচেয়ে উপযুক্ত।
ঘুমের সমস্যার সমাধান
মানসিক চাপ, অনিয়মিত সময়সূচি বা সারা দিন বসে থাকার জীবনধারার কারণে অনেকেই ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন। ঘুমানোর আগে অল্প সময়ের জন্য হালকা ব্যায়াম করলে এই সমস্যাটির সমাধান করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞের দৃষ্টিকোণ
ড. ট্রক্সেল বলেন, ঘুমানোর পূর্বে ভারী ব্যায়াম এড়ানো উচিত।
তবে হালকা ব্যায়াম ঘুমের মান উন্নত করতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তার এই পরামর্শটি একটি গবেষণার সঙ্গে মিলতে দেখা গেছে। যেখানে বলা হয়েছে, মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যকলাপ ঘুমের ধরণ উন্নত করতে পারে এবং প্রাকৃতিক ঘুম চক্রে বাধা দেয় না।
ভালো ঘুমের জন্য যা করবেন
ভালো ঘুমের জন্য যা করবেন
সন্ধ্যায় ১০–২০ মিনিটের জন্য হালকা ব্যায়াম, যেমন স্ট্রেচিং, স্লো যোগব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করুন।
ঘুমানোর অন্তত তিন ঘণ্টা আগে ভারী খাবার এবং তীব্র ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন।
ব্যায়ামের উপকারিতা বাড়াতে একটি নিয়মিত ঘুমানোর রুটিন বজায় রাখুন।
এই বিশেষজ্ঞের দৃষ্টিভঙ্গি ও গবেষণাটি নিশ্চিত করে যে ভালো ঘুমের জন্য সন্ধ্যাকালীন হালকা ব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সমস্যার সমাধানে এই পদ্ধতি খুবই কার্যকর।
Leave a Reply