ত্বক সুস্থ রাখতে সবসময় বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শীতের দিনে যখন ত্বক রুক্ষ-শুষ্ক হয়ে যায়, তখন বাড়তি যত্নের প্রয়োজন পড়ে।
বর্তমান যুগে সুন্দর চেহারা পেতে কে না চায়, তাই বাজারে পাওয়া নানা পণ্য আমরা ব্যবহার করি। এসব পণ্য কেমিক্যালযুক্ত হওয়ায় সমস্যা আরো বৃদ্ধি পায়।
এমনকি ত্বকে দাগ, ব্রণ ও বলিরেখার মত সমস্যায় ডেকে আনতে পারে। তাই অনেক মানুষ আবার বেছে নেন ঘরোয়া প্রতিকার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরে সঠিক পুষ্টির অভাব থাকলে তা ত্বকের সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে বা নতুন সমস্যা তৈরি করতে পারে। এজন্য খাদ্যতালিকায় সঠিক খাবার অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো বয়সের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এগুলো বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। সেগুলো থেকে দূরে থাকা উচিত। চলুন, জেনে নিই কোন কোন খাবার থেকে দূরে থাকা উচিত।
ট্রান্স ফ্যাট
প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস- ট্রান্স ফ্যাট শরীরে প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ায়। এই দুটিই ত্বকের ক্ষতি করে, যা বলিরেখা ও সূক্ষ্মরেখা সৃষ্টি করে।
কোলাজেনের ক্ষয়- ট্রান্স ফ্যাট কোলাজেনের উৎপাদন কমায়, যা ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা হ্রাস করে।
রেড মিট
প্রদাহ- রেড মিটে উচ্চ পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা শরীরে প্রদাহ বাড়ায়।
ফ্রি র্যাডিক্যাল- রেড মিটে ফ্রি র্যাডিক্যালও থাকে, যা কোষের ক্ষতি করে এবং বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার
গ্লাইকেশন- চিনি শরীরের প্রোটিনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, যাকে গ্লাইকেশন বলে। এই প্রক্রিয়াটি কোলাজেন ও ইলাস্টিনের ক্ষতি করে। যা ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ও শক্তির জন্য অপরিহার্য।
প্রদাহ- প্রক্রিয়াজাত খাবারে উচ্চ পরিমাণে গ্লুকোজ, নুন ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে। এগুলো শরীরে প্রদাহ বাড়ায়, যা কোষের ক্ষতি করে এবং বার্ধক্যের প্রাথমিক লক্ষণ সৃষ্টি করে।
লবণ
রক্তচাপ- অতিরিক্ত লবণ খেলে রক্তচাপ বাড়ে, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
ফোলাভাব- লবণ খেলে শরীরে ফোলাভাব বাড়ায়, যা ত্বকের ক্ষতি করে।
অ্যালকোহল
ডিহাইড্রেশন- অ্যালকোহল শরীরকে ডিহাইড্রেট করে, ত্বককে শুষ্ক ও প্রাণহীন করে তোলে।
কোলাজেনের ভাঙন- অ্যালকোহল কোলাজেনের ভাঙ্গনকে উৎসাহিত করে, যা বলিরেখা ও সূক্ষ্ম রেখা তৈরির দিকে পরিচালিত করে।
বার্ধক্য কমাতে কী করবেন?
ডায়েটে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খান। যেমন- ফল, শাকসবজি, বাদাম ও বিভিন্ন ধরনের বীজ। যা কোষকে ফ্রি র্যাডিক্যাল ড্যামেজ থেকে রক্ষা করে।
এ ছাড়া ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত খাবার, যেমন- মাছ, আখরোট ও চিয়া বীজ খেতে পারেন। যা প্রদাহ কমায় এবং ত্বককে সুস্থ রাখে।
পানি শরীরকে হাইড্রেট রাখে এবং ত্বককে উজ্জ্বল করে। তাই দিনে অন্তত ২-৩ লিটার পানি পান করুন।
সূত্র : বোল্ডস্কাই
Leave a Reply