ছোলা ছাড়া ইফতারটা যেন অসম্পূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে মুসলমানরা ইফতারে অন্য রাখেন আর না রাখেন, এই পদটি অবশ্যই রাখেন। কিন্তু বলুন তো ইফতারে ছোলা কেন খাওয়া হয়? যদি ভেবে থাকেন চপ, পেঁয়াজু, বেগুনির মতোই ছোলাও শুধু মুখরোচক খাবার হিসেবে রাখা হয়, তবে সেটা হবে ভুল ধারণা। কারণ ছোলা এমনই এক পুষ্টিকর খাবার, যা আপনার সারা দিনের রোজার ক্লান্তি দূর করতে পারে।
ছোলায় আমিষের পরিমাণ মাংস বা মাছের আমিষের পরিমাণের প্রায় সমান। ছোলার ডাল, তরকারিতে ছোলা, সেদ্ধ ছোলা ভাজি, ছোলার বেসন- নানান উপায়ে ছোলা খাওয়া যায়।
প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় আছে প্রায় ১৭ গ্রাম আমিষ বা প্রোটিন, ৬৪ গ্রাম শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট এবং ৫ গ্রাম ফ্যাট বা তেল। ছোলার শর্করা বা কার্বোহাইডেটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম।
খাওয়ার পর খুব তাড়াতাড়িই হজম হয়ে গ্লুকোজ হয়ে রক্তে চলে যায় না। বেশ সময় নেয়। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ছোলার শর্করা ভালো।
ছোলার ফ্যাট বা তেলের বেশির ভাগই পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়।
প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট ছাড়া ছোলায় আরো আছে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণ। এ ছাড়া প্রতি ১০০ গ্রাম ছোলায় ক্যালসিয়াম আছে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১০ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন এ ১৯০ মাইক্রোগ্রাম। আছে ভিটামিন বি১, বি২, ফসফরাস ও ম্যাগনেশিয়াম। এ সবই শরীরের জন্য কাজে লাগে।
প্রতিদিন সামান্য পরিমাণে (প্রায় ৫০ গ্রাম) ছোলা খেলে মাছ-মাংসের ঘাটতি পূরণ হয়।
তাই সারাদিন না খেয়ে থাকার পর ইফতারিতে ছোলা খেলে গোশত, মাছ বা ডিমের আমিষের পরিমাণের প্রায় সমান শরীরে প্রবেশ করে। এ ছাড়া ছোলার আছে আরো নানা গুণ। চলুন, জেনে নেওয়া যাক।
অস্থির ভাব দূর হয়
ছোলার শর্করার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের পরিমাণ কম, যা শরীরে প্রবেশ করলে অস্থির ভাব দূর হয়। ছোলা খাওয়ার পর বেশ অল্প সময়েই হজম হয়।
ডায়াবেটিস
ছোলা শর্করা গ্লুকোজ হয়ে দ্রুত রক্তে চলে যায় না। ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য এই খাবার খুবই উপকারী। ছোলার ফ্যাটের বেশিরভাগই পলি আনস্যাচুয়েটেড ফ্যাট, যা শরীরের জন্য মোটেই ক্ষতিকর নয়।
কোষ্ঠকাঠিন্য
ছোলায় খাদ্য আঁশও আছে বেশ। এ আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য অনেক উপকারী। খাবারের আঁশ হজম হয় না। এভাবেই খাদ্যনালি অতিক্রম করতে থাকে। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। ফলে খাদ্যনালির ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা কমে।
চর্বি কমায়
নিয়মিত ছোলা খেলে আর নিয়মমতো পায়খানা হলে খাদ্যনালিতে ক্ষতিকর জীবাণু থাকতে পারে না। ফলে খাদ্যনালির ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে না বলা যায়। এর আঁশ রক্তের চর্বি কমায়। ছোলা দীর্ঘক্ষণ ধরে শক্তির জোগান দেয় শরীরে।
রোগ প্রতিরোধ করে
কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে কাঁচা আদার সঙ্গে খেলে শরীরে আমিষ ও অ্যান্টিবায়োটিকের চাহিদা পূরণ হয়। আমিষ মানুষকে শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যবান বানায় এবং অ্যান্টিবায়োটিক যেকোনো অসুখের জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
মেরুদণ্ডের ব্যথা দূর করে
এ ছাড়া এতে ভিটামিন ‘বি’ও আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। ভিটামিন ‘বি’ মেরুদণ্ডের ব্যথা, স্নায়ুর দুর্বলতা কমায়। ছোলা অত্যন্ত পুষ্টিকর। এটি আমিষের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস। তাই খাদ্যতালিকায় ছোলা থাকলে মাছ মাংসের প্রয়োজন পড়ে না। ত্বকে আনে মসৃণতা।
রমজানে ইফতারে পরিমাণ মতো ছোলা খেয়ে নিজের শরীরকে সতেজ ও সুস্থ রাখুন।
Leave a Reply