ফলের মৌসুমের অন্যতম একটি ফল আনারস। যদিও এই ফলটি বারো মাসেই হাতের নাগালে পাওয়া যায়। অনেকেই ফলটি খেতে ভালোবাসেন। প্রায়ই দেখা যায়, ফলটিকে ঝাল-মসলা ও কাসুন্দি মাখিয়ে বিক্রি করা হয়।
অনেকে খেতেও পছন্দ করেন এই আনারস মাখা।
তবে এই আনারস অনেকের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। কারা আনারস থেকে দূরে থাকবেন, তা জানাতেই আজকের প্রতিবেদন। চলুন, জেনে নেওয়া যাক—
অ্যালার্জির আক্রমণ : আনারস খেলে অনেকের দেহে অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে।
এর ফলে ঠোঁট ফুলে যাওয়া ও গলায় শুঁড়শুঁড়ি বোধ হতে পারে। তাই আনারস খাওয়ার আগে তা কেটে লবণ পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়া উচিত। এভাবে ধুয়ে নিয়ে খেলে কোনো সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
গর্ভবতী নারী : আনারসের কারণে নারীদের গর্ভপাত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
গর্ভাবস্থায় থাকলে নারীদের আনারস খেতে বারণ করা হয়। তা ছাড়া গর্ভাবস্থার পরে চাইলে আনারস খেতে পারেন, কিন্তু শরীরের অবস্থা বুঝে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে।
বাতের ব্যথা : আনারস খাওয়ার পর এটি আপনার গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল নালীর কাছে পৌঁছে অ্যালকোহলে পরিণত হয়। এই কারণে মানুষের দেহে বাতের ব্যথা শুরু হতে পারে। তাই যাদের দেহে বাতের ব্যথা আছে, কিংবা সন্দেহ করা হচ্ছে বাত হতে পারে, তাদের আনারস না খাওয়াটাই ভালো।
ডায়াবেটিস : আনারসে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি আছে। এর ২টি চিনি উপাদান সুক্রোজ ও ফ্রুক্টোজ ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। আনারসে থাকা অতিরিক্ত চিনি আমাদের রক্তে চিনির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। তাই আনারস বেশি না খেয়ে সপ্তাহে ২ দিন খেতে পারেন।
ওষুধের প্রতিক্রিয়া : আনারসে থাকা ব্রমিলেইন উপাদান দিয়ে ওষুধ বানানো হয়ে থাকে এবং কোনো রোগীর প্রয়োজন পড়লে তাকে তা দেওয়া হয়ে থাকে। তা ছাড়া আপনি যদি কোনো কারণে অ্যান্টি-বায়োটিক ও অ্যান্টিকনভালসেন্ট ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে আনারস থেকে দূরে থাকুন। এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
কাঁচা আনারসে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া : অনেকেই কাঁচা আনারস দিয়ে জুস তৈরি করেন। কিন্তু এটি দেহের জন্য ক্ষতিকর এবং খুব বিষাক্ত। মাঝে মাঝে কাঁচা আনারস খাওয়ার কারণে বমির প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
মুখ ও গলার জন্য ক্ষতিকর : কাঁচা আনারসে প্রচুর পরিমাণে এসিডিটি রয়েছে, যা আমদের মুখের ভেতর ও গলায় শ্লেষ্মা তৈরি করে। ফলটি খাওয়ার পর মাঝে মাঝে অনেকের পেটে ব্যথাও হতে পারে।
রক্ত তরলীকরণ ওষুধ : রক্ত তরল করার জন্য যে ওষুধ বানানো হয়, তাতে আনারস ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই ফল দেহে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াতে বাঁধা প্রদান করে থাকে।
আনারসের ব্রমিলেইনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া : ব্রমিলেইন আনারসের একটি উপাদান, যা আমাদের দেহের প্রোটিনের পরিমাণ নষ্ট করতে দায়ী থাকে। এই ফল দেহে ডার্মাটাইটিস ও অ্যালার্জির সংক্রমণ বাড়ায়।
দাঁতের জন্য ক্ষতিকর : আনারস আমাদের দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। যাদের দাঁতে ক্যাভিটিস ও জিংজাইভেটিসের সমস্যা আছে, তাদের আনারস না খাওয়াই ভালো।
সূত্র : হেলথ্ডাইজেস্ট ডট কম
Leave a Reply