বাংলাদেশ টেলিভিশনের ঢাকা কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার পদে পদায়ন নিয়ে নজিরবিহীন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এ পদে থাকা নুরুল আযম পিআরএলএ চলে গেছেন এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি ছিল তার শেষ কর্মদিবস। ৯ দিন পার হয়ে গেলেও নানামুখি তদবিরের কারণে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এ পদে কাউকে পদায়ন করতে পারেনি।
বিটিভির নিয়োগ বিধি অনুযায়ী জিএম পদটি অনুষ্ঠান শাখার গ্রেড-৪ মর্যাদার একটি পদ। কিন্তু অনুষ্ঠান শাখায় গ্রেড-৪ স্তরের কোন কর্মকর্তা না থাকার কারণে এ সমস্যাটি তৈরি হয়েছে। সেক্ষেত্রে সার্ভিস রুলের বিধান হলো এই পদে যারা পদোন্নতি পাওয়ার উপযুক্ত তাদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতম ব্যক্তিকে চলতি দায়িত্ব প্রদান করা। কিন্তু বিটিভিতে বদলি-পদায়নের ক্ষেত্রে তথ্য মন্ত্রণালয় এসব বিধি বিধানের তোয়াক্কা করে না। বিধি বহির্ভূতভাবে বিটিভিতে এক শাখার কর্মকর্তাকে অন্য শাখায়, এমনকি বেতারের কর্মকর্তাকে বিটিভিতে চলতি দায়িত্ব দেয়ার নজির তৈরি করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। শুধু তাই নয়, সিনিয়র কর্মকর্তাকে জুনিয়র কর্মকর্তার অধীনে, এমনকি চতুর্থ বা পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তাদের দশম গ্রেডের কর্মকর্তাদের অধীনে উপকেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে। এধরনের বদলি/পদায়ন শুধু ক্ষমতার অপব্যবহার বা স্বেচ্ছাচারিতাই নয় মানহানি সংক্রান্ত ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য হতে পারে বলে অনেকে মনে করেন।
তথ্য বলছে- অনুষ্ঠান শাখার পঞ্চম গ্রেডের চার প্রোগ্রাম ম্যানেজার মাহবুবা ফেরদৌস, নূর আনোয়ার, ইমাম হোসেন ও মনিরুল হাসান ছাড়াও তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে জিএম পদে নিয়ম বহির্ভুত পদায়ন নেয়ার আশায় ডিজাইন, নিউজ ও ক্যামেরা শাখার পঞ্চম গ্রেডের প্রায় এক ডজন কর্মকর্তা তদবির চালিয়ে যাচ্ছন বলে জানা গেছে। কেউ কেউ মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করে ফেলেছেন বলে প্রচার রয়েছে।
শুধু তাই নয়, বিটিভিতে কর্মরত বেতারের তিন কর্মকর্তা এই পদের জন্য দৌড় ঝাঁপ শুরু করেছিলেন। এরমধ্যে ২০০৯ সালে আওয়ামী আমলের শুরু থেকে বিটিভিতে পোস্টিং পাওয়া বেতার কর্মকর্তা আজগর আলী ও মাহবুবুর রহমান আওয়ামীপন্থী হিসেবে ব্যাপক পরিচিত থাকায় রণে ভঙ্গ দিয়েছেন। বিটিভিতে প্রেষণে কর্মরত একজন প্রোগ্রাম ম্যানেজারকে এই পদে বসানোর জন্য বেতারের পক্ষ থেকে শক্তিশালী তদবির চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, সদ্য অবসরপ্রাপ্ত জিএম নুরুল আযম এইপদে এক্সটেনশন পাওয়ার জন্য এখনও সর্বোচ্চ পর্যায়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নানামুখী তদবিরে অতিষ্ঠ হয়ে তথ্য মন্ত্রী বিষয়টি প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করেছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জেনারেল ম্যানেজার পদের জন্য এত তদবিরের মুলে রয়েছে দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা কামানোর সুযোগ। জিএম এর নিয়ন্ত্রণে বছরে শিল্পী সম্মানী খাতে ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকে। শিল্পীদের নামে ভুয়া বিল করে অর্থ উপার্জনের সহজ সুযোগ রয়েছে। অবশ্য মন্ত্রণালয় ও এজি অফিসেও তার ভাগ দিতে হয় বলে জানা গেছে।
Leave a Reply