জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ নিয়ে সরকারের কাছে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি বলেন, জ্বালানি তেল নিয়ে সংকট তৈরি যারা করেছে তাদের চিহ্নিত, বিচার এবং মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারেরও দাবি করছি। রবিবার (১৯ এপ্রিল) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার। মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হওয়া এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম প্রতি লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
নতুন দরে ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১১৫ টাকা (আগে ১০০ টাকা), অকটেন ১৪০ টাকা (আগে ১২০ টাকা), পেট্রোল ১৩৫ টাকা (আগে ১১৬ টাকা) এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা (আগে ১১২ টাকা)।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে ওঠায় বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়ে। মার্চের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে এবং কিছু এলাকায় বাড়তি এমনকি দ্বিগুণ দামে তেল বিক্রির ঘটনাও সামনে এসেছে। প্রায় প্রতিদিনই অবৈধভাবে তেল মজুতের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এ অবস্থায় প্রিন্স অভিযোগ করেন, সরকার একদিকে দাবি করে এসেছে দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং দাম বাড়ানো হবে না, অন্যদিকে বিশ্ববাজারে দাম কমার খবরের মধ্যেই দেশে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি এটিকে অস্বাভাবিক ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলেও উল্লেখ করেন।
জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় টেকসই সমাধানের জন্য আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প পথ অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়ে প্রিন্স বলেন, সংকটের সময়ে বিকল্প উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, কিন্তু সরকার এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করছে না।
Leave a Reply