ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো-আইসিডি সাড়ে আট শতাংশ ‘ফুয়েল সারচার্জ’ আরোপ করেছে। ফলে আমদানি-রফতানি খরচ বেড়েছে। আইসিডি বন্দরের একটা অংশ হয়েও স্টেকহোল্ডার, বন্দর, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা না করে হঠাৎ করে জ্বালানি সারচার্জ আরোপ করা ঠিক হয়নি, বলছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি-রফতানি পণ্যের বাড়তি চাপ সামলানোর জন্য বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো-আইসিডি অনুমোদন করে সরকার। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে গড়ে ওঠেছে ২১টি আইসিডি। প্রায় ৯৩ শতাংশ রফতানি পণ্য ভর্তি কনটেইনার এসব আইসিডি থেকে বন্দর হয়ে বিদেশ যায়। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে সোমবার থেকে এসব আইসিডি-তে সাড়ে আট শতাংশ ‘ফুয়েল সারচার্জ’ আরোপ করে ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডা (BICDA)। বিকডার আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন তৈরি পোশাকখাতের উদ্যোক্তা এবং আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে জড়িতরা।
বিকডার মহাসচিব মোহাম্মদ রুহুল আমিন সিকদার জানান, কনটেইনার পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইম মুভার থেকে আইসিডির হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি ডিজেলনির্ভর। সরকার ডিজেলের মূল্য ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির কারণে আইসিডির ডিজেল-নির্ভর খাতগুলোতে সারচার্জ হিসেবে সাড়ে আট শতাংশ আরোপ করা হয়েছে।
তবে বিজিএমইএর পরিচালক মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, স্টেকহোল্ডার, বন্দর, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা না করে হঠাৎ করে জ্বালানি সারচার্জ আরোপ করা ঠিক হয়নি। এতে তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা উদ্বিগ্ন। তিনি আশা করেন,বিকডা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ জানান, চার মাস আগেই বিকডা চার্জ বাড়িয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু শিপিং লাইন সারচার্জ আরোপ করেছে। এর মধ্যে সরকার ডিজেলের দাম বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা না করে জ্বালানি সারচার্জ আরোপ করে দিল বিকডা। ফলে তৈরি পোশাক শিল্প বেশ ক্ষতির মুখে পড়বে। কনটেইনার নির্ভর সাধারণ আমদানি ও রফতানিকারকদেরও খরচ বাড়বে।
Leave a Reply