কেমন হয় যদি শিশুর কল্পনার রাজ্য গড়ে দেওয়া যায় তার ঘরেই। দেয়ালে পঙ্খিরাজ ঘোড়া, সুপারম্যানদের ছবি, ঘরময় খেলনা ওর জগত্টাই করে তুলবে বর্ণিল। পরামর্শ দিয়েছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনার নাজমুল হক নাঈম। লিখেছেন আহমেদ ইমরান
এসেছে নতুন শিশু তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান’—কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘ছাড়পত্র’ কবিতার মতো প্রতিটি মা-বাবা চান বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে তুলতে।
এ জন্য শৈশব থেকেই সন্তানকে স্বপ্নের পরিবেশে গড়ে তোলার সাধ্যে কমতি রাখেন না। শিশুর জগত্টা শুরু হয় ঘর থেকেই। এ জন্য তার ঘরটাকেই গড়তে পারেন কল্পনার রাজ্য হিসেবে।
ঘরের দেয়াল, ছাদ, মেঝে, পড়ার টেবিল, শোবার খাট থেকে শুরু করে দরজা—সব কিছুতেই শিশুমনের চাহিদাকে প্রাধান্য দিতে পারেন।
এ ক্ষেত্রে সবার আগে আরামটাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। এরপর সোনামণির ব্যবহারের দিকটার কথা মাথায় রেখে ঘরের ইন্টেরিয়র সাজিয়ে নিতে পারেন। শিশুর প্রয়োজন ও নিরাপত্তার বিষয় মাথায় রেখে ঘর সাজানো উচিত। শিশুর ঘরের অন্দরসাজ শিশুর বিকাশে প্রভাব ফেলে।
তিন বছর বয়সী অদিতির দ্বিতীয় জন্মদিনে পুরো একটা রুম সাজিয়ে দিয়েছে তার মামা। ঘরের দরজায় অদিতির অনেক বড় ছবি। ভেতরের দেয়ালে পঙ্খিরাজ ঘোড়া, সিনড্রেলাসহ অনেক ছবি আঁকা।
খেলার জন্য বেবি স্লিপার, প্লাস্টিকের ঘোড়া, র্যাকে কার্টুন ও কমিকসের বইসহ আরো অনেক কিছু। এখন বেশির ভাগ সময়ই নিজের ঘরেই হেসেখেলে বেড়ায় সে।
অনেক সময় জোর করেও বাইরে বের করা যায় না। এমনটাই বললেন তার মা সেলিনা রহমান। শিশুর বয়স দুই পেরোনোর পরই তার জন্য আলাদা নিজস্ব ঘর সাজিয়ে দিতে পারেন। আসবাব নিরাপদ হওয়া জরুরি, যাতে কোনায় লেগে শিশু আঘাত না পায়।
দেয়াল ও ছাদ সজ্জা
ঘরের অন্দরসাজে শিশুর কল্পনার জগত্টাই তুলে ধরার চেষ্টা করতে পারেন। হলুদ, লাল, সবুজসহ নানা রঙের সংমিশ্রণে দেয়াল ও ছাদে গাছপালা, ফুল, পাখি, লতাপাতা, ফল, চাঁদ, তারা, সূর্যসহ কাল্পনিক নানা চরিত্র—স্পাইডারম্যান, সিনড্রেলা, ব্যাটম্যান ফুটিয়ে তুলতে পারেন। একেক দেয়ালে একেক রঙে ও চিত্রে সাজাতে পারেন। ছাদে নীল আকাশ বা রাতের চাঁদ, তারা, গ্রহ, নক্ষত্র, মহাকাশ আঁকতে পারেন। শিশুর বয়স বিবেচনায় পতাকা, দেশের মানচিত্র, বিখ্যাত ব্যক্তিদের ছবি, নদী, প্রাকৃতিক দৃশ্য কিংবা বিখ্যাত স্থাপনার ছবিও ফুটিয়ে তুলতে পারেন দেয়ালে। অথবা চিত্রকর্মও ঝুলিয়ে দিতে পারেন। ঘরে শীতলভাব আনতে হালকা নীল বা সবুজ রং ব্যবহার করতে পারেন।
শিশুতোষ আসবাব
বয়স বুঝে শিশুর আসবাব বেছে নেওয়া ভালো। শিশুর উচ্চতার সঙ্গে মিল রেখে তার ব্যবহারের সুবিধামতো আসবাব—চেয়ার, টেবিল, খাট বেছে নিন। খেলনাগুলোও বয়স ও শিশুর পছন্দসই হওয়া চাই। ঘরের দেয়াল, ছাদের রঙের সঙ্গে মিল রেখে আসবাবের রং বেছে নেওয়া যেতে পারে। ফুল-পাতা, বারবি পুতুল বা কার্টুন আঁকা আসবাব রাখতে পারেন শিশুর ঘরে। গাড়ি আকৃতি, ঘোড়া আকৃতিসহ নানা ডিজাইনের খাট পাওয়া যায়। এগুলো কিনতে পারেন। খাটের চারপাশে রেলিং থাকলে ভালো। এতে ঘুম বা খেলার সময় খাট থেকে গড়িয়ে পড়বে না।
আরো যা কিছু
ঘরের একপাশ শিশুর প্লে জোনে বেবি স্লিপার, ঘোড়া, দোলনাসহ ছোট ছোট খেলনা দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন। ছোট আলমারি রাখতে পারেন জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখার জন্য। পড়ার জন্য কাস্টমাইজড চেয়ার-টেবিল কিনে দিন। এসব টেবিল ও চেয়ার একসঙ্গে যুক্ত থাকে। একাধিক তাক, স্টোর সুবিধা থাকায় বইপত্র, খাতা, কলম, পেনসিলসহ বিভিন্ন জিনিস ছোট থেকেই গুছিয়ে রাখতে শিখবে।
Leave a Reply