গত সোমবার রাত ১ টার সময় পরিবার সহ পালালো বিসিএসআইআর এর চেয়ারম্যান আফতাব আলী শেখ।
রাজনৈতিক ও গোপালগঞ্জের কোটায় বিসিএসআইআর এর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আফতাব আলী শেখ। জানা যায় তিনি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হন। ভর্তিপর ক্যাম্পাসে মারামারি ও খুনে লিপ্ত থাকতেন তিনি! রেজাল্ট সব পিছনে থেকেও তৎকালীন রসায়ন বিভাগের ডীন ও নিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যানকে দলীয় ক্যাডার দ্বারা অবরুদ্ধ করে জোর করে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ ভাগিয়ে নেন।তারপর থেকে তিনি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত হয়ে আরো বেপরোয়া আচরণ করতে থাকেন। কোন ক্লাস না নিয়ে তিনি জোরপূর্বক পদোন্নতি ভাগিয়ে প্রফেসর পর্যন্ত হন কোন রকমের মৌলিক গবেষণা পেপার ছাড়া! স্টুডেন্ট না পড়িয়ে সারাদিন রাজনীতি নামক গুন্ডামীতে ব্যস্ত থাকতেন সরকারের উচ্চ পদ ভাগাতে! এইজন্য তিনি দূর্বৃত্তের হাতে কোপও খান! অবশেষে তিনি সফল হন। তাকে নিয়ম ভেঙে ৩ বছরের জন্য চেয়ারম্যান করেন শেখ হাসিনা একক সিদ্ধান্তে! আবার নিয়ম ভেঙে ৩ বছরের জন্য পূনরায় নিয়োগ দেন! নিয়োগ পেয়ে তিনি বিসিএসআইআর বিজ্ঞানীদের অত্যাচার নির্যাতন শুরু করেন। জঘন্য ভাষায় গালাগালি, ধর্মীয় লেবাস পেলে অপমান অপদস্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহিরে বিজ্ঞানীদের হয়রানী, বদলী, ল্যাবে কাজ করার সুযোগ না দেওয়া সহ জঘন্য নোংরা অফিস পলিটিক্স শুরু করেন! বিসিএসআইআরকে তিনি পার্টি অফিস করেন এবং বিসিএসআইআর এর টাকা পার্টির কাজে অনুদান সহ ডিভাইড এন্ড রুল করে কাঁদা ছুড়াছুড়ি করেন সব কয়েকটি ল্যাবে। তিনি আগষ্টের ২০২০ সালে নিয়োগ পেয়ে ছাত্রলীগ, হিন্দু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের বাহিরে কাউকে নিয়োগ দেননি! সারাদিন ছাত্রলীগের ছেলেদের নিয়ে ঘুরত এবং তাদেরকে দিয়ে স্পাই করিয়ে সকল বিজ্ঞানীদের অপদস্ত করত! সকল সুযোগ সুবিধা দিত ঢাবীর রসায়ন বিভাগের ছাত্রদের আর ছাত্র লীগের ছেলেদের কিন্তু অন্যরা কাজ করলেও তাদের পদে পদে অপমান, অপদস্ত, বঞ্চিত করত! মোসাহেব মার্কা এবং তার মত যাদের কোন গবেষনা অভিজ্ঞতা নাই তাদেরকে ডিরেক্টর করত সিনিয়রিটি ব্রেক করে! সকল বিজ্ঞানীকে বাধ্য করত গবেষণা পত্রে তার নাম দিতে! না দিলে নানান ভাবে হয়রানি করত অনৈতিকভাবে। তিনি সীমাহীন পাষাণ এবং অসুস্থ প্রকৃতির জংগী মানুষ! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহিরে কাউকে মানুষই মনে করত না!
বর্নবাদ, স্বজনপ্রীতি, পার্টি প্রীতি করে বিসিএসআইআর এর রিসার্চ পরিবেশ এমন বাজে করে প্রতিষ্ঠানকে ৫০ বছর পিছিয়ে দিলেন! এমন জংলী আচরন এবং টোকাই মার্কা চেয়ারম্যান বিসিএসআইআর এর ৬০ বছরের ইতিহাসে আসেনি। তিনি বিজ্ঞানী ও কর্মচারীদের মনোবল এত বাজেভাবে ভেঙেছেন এতে সবাই মেন্টাল টমাতে গেল যেন! তার মুখের ভাসা নিষিদ্ধ পল্লীর মানুষের মত, আচরন টোকইএর মত! তিনি সংবিধান ও সার্ভিস বিধি কিছুই মানেন না! তাকে প্রতিষ্ঠানের তার সুবিধাভোগী লোকজন ছাড়া কেউ সহ্য করতে পারত না!
সর্বশেষ ছাত্রদের গায়ে কালিমা লাগাতে এবং আলোচনায় থাকতে তার নেতৃত্বে এবং পরিচালক শামীম আহমেদ ও শাহীন আজিজের ডোনেশনে বিসিএসআইআর এর গাড়িতে আগুন লাগান! আগুন লাগানোর রসদ যোগান দেন হুমায়ুন কবির, সাবিনা আক্তার, শাহরিয়ার সিদ্দিক সিসিম, সাইদুল ইসলাম। গাড়িতে আগুন লাগানোর পর কর্মচারীরা আগুন নেভাতে গেলে তিনি অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক শামসুদ্দিনকে গায়ে হাত পর্যন্ত তোলেন! এতসব অপকর্ম এবং প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী ও কর্মচারীদের রোষানল থেকে বাঁচতে তিনি রাতের আধারে পালালেন।
Leave a Reply