চিকিৎসকসহ অনেকেই ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বিজ্ঞান বলছে, ভোরবেলায় কোনো কাজ করলে তাতে মনোযোগ বেশি থাকে এবং উপকারও পাওয়া যায় বেশি। আবার নানা গবেষণা বলছে, ভোরে চারপাশের পরিবেশ শান্ত থাকে, ফলে পড়াশোনা হোক বা শরীরচর্চা সব কাজেই ভালো মনঃসংযোগ হয়। কিন্তু ব্যস্ত জীবনে আমরা ভোরে উঠতে পারি না অনেকেই।
আজকের প্রতিবেদনে জানাব তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠার পাঁচটি কৌশল। চলুন, তাহলে জেনে নেওয়া যাক।
ধীরে ধীরে ঘুমের সময় পরিবর্তন করুন
হঠাৎ করে একটি নতুন ঘুমের সময়সূচি তৈরি করলে সেটি মানতে কষ্ট হতে পারে। এর পরিবর্তে প্রতিরাতে পূর্বের ঘুমানোর সময় থেকে ১৫ মিনিট আগে ঘুমানোর এবং ১৫ মিনিট আগে ঘুম থেকে উঠার চেষ্টা করুন।
যতক্ষণ না আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত শোয়ার সময়ে পৌঁছান ততক্ষণ এভাবে ১৫ মিনিট করে কমাতে থাকুন। এভাবে ধীরে ধীরে সময় পরিবর্তন করে নিলে কোনো সমস্যা হবে না, বরং অভ্যাসে পরিণত হবে।
শরীরে সকালের হাওয়া লাগান
সকালের প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস মেলাটোনিনকে দমন করে সার্কাডিয়ান ছন্দকে প্রভাবিত করে। ভোরবেলা উজ্জ্বল আলোর আপনাকে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে সাহায্য করতে পারে।
এর ফলে আপনি তাড়াতাড়ি ঘুমাতে চাইবেন। উদাহরণস্বরূপ, সকালে হাঁটা আপনার নতুন ঘুমের সময়সূচিকে অভ্যাসে পরিণত করবে।
দিনের শুরুতে ব্যায়াম করুন
সকালের ব্যায়াম আপনাকে নতুন ঘুমের সময়সূচিতে স্থানান্তর করতে সাহায্য করবে। এর ফলে আপনি শরীরে শক্তি পাবেন এবং সারা দিন ফুরফুরে মেজাজে থাকবেন।
খাওয়ার সময় ঠিক করুন
দুপুর ও রাতের খাবার আগে খেয়ে নিন।
ভরা পেটে ঘুমালে অস্বস্তি লাগবে। তা ছাড়া এর স্বাস্থ্যগত সমস্যাও রয়েছে। গ্যাস ও এসিডিটির সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়া আরো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এ ছাড়া ক্যাফেইন গ্রহণের অভ্যাস থাকলে তা সীমিত করুন। ক্যাফিন আপনার ঘুমিয়ে পড়ার ক্ষমতাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
রাতে ডিভাইস ব্যবহার কমিয়ে আনুন
ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ইলেকট্রনিক, যেমন টিভি, স্মার্টফোন ও অন্যান্য ডিভাইস বন্ধ করে রাখা ভালো। ইলেকট্রনিকস যে নীল আলো নির্গত করে তা মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত করে এবং মেলাটোনিনের উৎপাদনকে দমন করতে পারে। এর ফলে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়া আরো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
আগে ঘুম থেকে উঠা একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। এটি আপনার উৎপাদনশীলতা ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তাই তাড়াতাড়ি ঘুমান এবং তাড়াতাড়ি উঠুন। এতে শরীর-স্বাস্থ্য উভয়ই ভালো থাকবে।
সূত্র : সুমা হেলথ
Leave a Reply