শীত পড়তেই বাজারে আসে জমিয়েছে ফুলকপি ও বাঁধাকপি। বাজারে অন্যান্য জিনিসের দাম চড়া হলেও শীত আসায় সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। তাই বাজার গেলেই ব্যাগে নিশ্চিতভাবে জায়গা করে নিচ্ছে এই দুই সবজি। শীতের দিনে এই তাজা সবজির রয়েছে অনেক গুণ।
তবে কোনটি বেশি ভালো, তা নিয়ে রয়েছে অনেক বিতর্ক। আজকের প্রতিবেদনে জানবেন এই দুই সবজির পুষ্টিগুণ।
বাঁধাকপি
১ কাপ বাঁধাকপি থেকে ২২ ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। শুধু তা-ই নয়, এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার।
যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে ওজন কমানোর কাজে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সেই সঙ্গে এই সবজি হলো ভিটামিন সি এবং অত্যন্ত উপকারী কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভাণ্ডার। তাই নিয়মিত বাঁধাকপি খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে অনেকটাই।
ফুলকপি
শরীরকে ডিটক্স করার কাজে ফুলকপির জুড়ি মেলা ভার।
এমনকি দেহে প্রদাহের প্রকোপ কমাতে চাইলেও আপনাকে নিয়মিত এই সবজি খেতেই হবে। তবে এখানেই শেষ নয়, এই সবজিতে রয়েছে অত্যন্ত উপকারী ফাইবারের ভাণ্ডার। আর এই উপাদান ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকরী। এমনকি ফুলকপি খেলে ওজনকেও অনায়াসে স্বাভাবিকের গণ্ডিতে নামিয়ে আনতে পারবেন। তাই শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের খাবারে এই সবজি খাওয়াই যায়।
কোনটা বেশি উপকারী
ফুলকপি ও বাঁধাকপির মধ্যে কেউ কারো থেকে কম নয়। বিশেষজ্ঞরাও এ বিষয়ে একমত। তাদের মতে, ফুলকপি ও বাঁধাকপি দুটোই অত্যন্ত পুষ্টিকর সবজি। তাই এই দুইয়ের মধ্যে কোনো একটিকে এই যুদ্ধে জয়ী ঘোষণা করা সম্ভব নয়। বরং সুস্থ-সবল জীবন কাটাতে চাইলে আপনাকে এই দুটি সবজিই খাবারের সঙ্গে রাখতে হবে।
বেশি খেলেই সমস্যা
শীতের দিনে এই দুই সবজির দাম কমেছে। তাই অনেকেই সারা সপ্তাহ জুড়ে বাঁধাকপি বা ফুলকপির পদ খাচ্ছেন। আর তাতেই একাধিক সমস্যার ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। তাই প্রতিদিন ফুলকপি, বাঁধাকপি খাওয়ার ভুল করবেন না। বরং সপ্তাহে ৫ দিন এইসব সবজি খেতে পারেন। আর দিনে এক কাপের বেশি ফুলকপি বা বাঁধাকপি খাবেন না। এই নিয়মটা মেনে চলতে পারলেই সুস্থ থাকা সম্ভব হতে পারে।
যে কারণে দূরে থাকবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইবিএস ও গ্যাসট্রাইটিসের মতো সমস্যা থাকলে এই দুই সবজি থেকে দূরে থাকতে হবে। নয়তো গ্যাস, অ্যাসিডিটির ফাঁদে পড়ার সম্ভাবনা থাকবে। ঠিক একইভাবে রেনাল ডিজিজ বা কিডনির অসুখে আক্রান্তদের ডায়েটেও ফুলকপি ও বাঁধাকপি না রাখাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
সূত্র : এই সময়
Leave a Reply