প্লাস্টিক অস্বাস্থ্যকর, এ কথা আমরা সবাই জানি। তবুও নিত্যদিনের অনেক কাজে আমরা প্লাস্টিকের ব্যবহার করে থাকি। আর সেটি এসে গেছে রান্নার অন্য়তম সরঞ্জামের মধ্যেও। এমন একটি সরঞ্জাম হচ্ছে চপিং বোর্ড বা সবজি কাটার বোর্ড।
মাটিতে বসে কষ্ট করে বঁটি বা অন্য কোনো ধারালো জিনিস দিয়ে সবজি কাটার পরিবর্তে চপিং বোর্ডে খুব সহজেই সেই কাজ করে নেওয়া সম্ভব। তবে এবার সেখানেও সাবধান হওয়ার সতর্কবার্তা দিচ্ছেন গবেষকরা ৷
কাটিং বোর্ড তৈরি হয় রাবার, বাঁশ, কাঠ বা প্লাস্টিক দিয়ে। রান্নার এই সরঞ্জাম প্রত্যেক গৃহিণীদের কাছে অতি প্রয়োজনীয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, বেশ কিছু প্লাস্টিকের তৈরি বোর্ডে সবজি কাটার সময় তাতে পলিপ্রোপিলিন ও পলিথিনের সূক্ষ্ম কণা মিশে যায়।
যা অতি সহজে খাবারের মধ্য দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। যার ফলে শরীরে নানা রকম রোগ বাঁসা বাধে।
পুষ্টিবিদদের মতে, চপিং বোর্ড ব্যবহার করা যেতেই পারে। তবে লক্ষ রাখতে হবে, সেটি তৈরির উপাদানটা কী।
বাজারে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিকের তৈরি চপিং বোর্ড পাওয়া যায়। কোনোটা খুব খারাপ ও কোনোটা একটু ভালো। কারণ সাধারণভাবে প্লাস্টিকের চপিং বোর্ড ব্যবহার করার সময় এটির কিছু অংশ খয়ে যাচ্ছে এবং সেই জিনিসের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। এর ফলে আমরা যদি কখনো এসিডিক কিছু কাটাকাটি করি তখন ওই এসিডের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে প্লাস্টিক। তাই সবসময় প্লাস্টিকের যেকোনো কিছুই এড়িয়ে যাওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাস্টিকের চপিং বোর্ড থেকে কাঠের চপিং বোর্ড তুলনামূলক ভালো। তবে সেখানেও অনেক সময় বিপদের আশঙ্কা। এই বোর্ড যদি ঠিকঠাক পরিষ্কার না করা হয়, এতে ফাঙ্গাল গ্রোথ এসে যেতে পারে। সেক্ষেত্রেও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরো জানান, কাটাকাটির জন্য সব থেকে ভালো হবে স্টিলের চপিং বোর্ড। কারণ এটি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। ছুরি দিয়ে সবজি কাটার ক্ষেত্রে অনেকেই চপিং বোর্ড ব্যবহার করেন। এতে বেশ সুবিধা হয়। কাজটিও তাড়াতাড়ি এগোয়।
অনেক সময় চপিং বোর্ডের ওপর ফল রেখেও কাটেন অনেকে। শুধু ফল কিংবা সবজি নয়, মাছ-মাংস কাটতেও চপিং বোর্ডের ব্যবহার অনেকে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, যে বোর্ডে মাছ-মাংস কাটা হয় সেই বোর্ডেই ফল বা শাক-সবজি কাটা একেবারেই উচিত নয়। কাঁচা মাংস বা মাছ কাটার পর ধুয়ে নিলেও থেকে যেতে পারে জীবাণু। কিভাবে চপিং বোর্ডকে জীবানুমুক্ত করবেন—
ফল, সবজি, মাছ থেকে মাংস, যা কাটুন না কেন চপিং বোর্ড ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। তবে শুধু পানিতে ধুলেই চলবে না। পানির সঙ্গে ভিনেগার ও লবণ মিশিয়ে সেই পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। এতে অনেকটা জীবানুমুক্ত রাখা সম্ভব।
তবে বিশেষজ্ঞরা জানান, চপিং বোর্ড ভেজা অবস্থায় রেখে দিলে জীবাণু জন্ম নেয়। তাই সবসময় ধোয়ার পর শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে তারপর রাখুন।
আমিষ, নিরামিষের জন্য আলাদা বোর্ড রাখা দরকার। মাছ ও মাংস যেহেতু তাড়াতাড়ি নষ্ট হয় তাই সেখান থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা বেশি। পুষ্টিবিদরা জানান, এর থেকে নিরাময়ে থাকতে সব থেকে ভালো উপায় হলো আমিষ ও নিরামিশের আলাদা আলাদা চপিং বোর্ড ব্যবহার করা।
সূত্র : ইটিভি
Leave a Reply