মৌসুমি ফলকে তেল-ঝাল-মশলা মাখিয়ে আচার বানানোর প্রথা আমাদের দেশে সেই প্রাচীন যুগ থেকে চলে আসছে। আচারের পাশাপাশি আরেকটি টক-ঝাল-মিষ্টি স্বাদের জিভে পানি আনা খাবার হলো মোরব্বা। মোরব্বা শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে আরবি শব্দ মুরব্বা থেকে। এর উৎপত্তি জর্জিয়ায়।
সেখানে স্থানীয় জনপ্রিয় ফল স্ট্রবেরি ও চেরি দিয়ে মোরব্বা তৈরির প্রচলন ছিল।
সপ্তম শতকে জর্জিয়ার বাসিন্দা বা গুর্জররা ভারতে এসে যেখানে যেখানে ঘাঁটি গেড়েছিলেন, সেখানেই মোরব্বা অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সেই সূত্রে আসে বাংলাদেশেও। এ দেশে আম, আনারস, আমলকী, চালকুমড়ার মোরব্বা তৈরি শুরু হয়।
এই মোরব্বা সারা বছরই সংরক্ষণ করে খাওয়া যায়। তাই এবারের আয়োজন আমলকির মোরব্বা।
টক-ঝাল-মিষ্টি আমলকির মোরব্বা কিভাবে বানাবেন, চলুন জেনে নেওয়া যাক—
উপকরণ
আমলকী- ৫০০ গ্রাম
চিনি- ২ কাপ
পানি- ১/২ কাপ
এলাচ গুঁড়া- ১ চিমটি
বিট লবণ- ১ চা চামচ
গোল মরিচ গুঁড়া- ১ চা চামচ
প্রণালি
আমলকী ভালো করে ধুয়ে সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এতে আমলকিগুলো খানিকটা নরম হয়ে যাবে।
সকালে পানি ঝরিয়ে নিয়ে কাঁটা চামচ বা টুথপিক দিয়ে আমলকির সারা গায়ে ছোট ছোট ফুটো করে নিন।
এবার পাত্রে পরিমাণমতো পানি বসিয়ে গরম করুন। তাতে আমলকী দিয়ে এক মিনিট সিদ্ধ করুন। এর বেশি সিদ্ধ করলে আমলকী গলে যেতে পারে। পানি ছেঁকে ফেলে দিয়ে আমলকিগুলো রেখে দিন।
কড়াইয়ে চিনি, সিদ্ধ আমলকী ও আধ কাপ পানি দিয়ে ক্রমাগত নাড়তে থাকুন। কম আঁচে জ্বাল দিন। ক্রমে চিনি গলতে থাকবে। মোটামুটি মিনিট কুড়ি নাড়াচাড়া করলেই দেখবেন মিশ্রণের রং সোনালি হয়ে গেছে।
গ্যাস বন্ধ করে মিশ্রণটি একটি পাত্রে ঢালুন। তাতে এলাচ গুঁড়া, বিট লবণ ও গোল মরিচ গুঁড়া দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এই ভাবে দুই দিন মিশ্রণটি ঢাকা রেখে দিন। দুই দিন পর একটি কাঁচের বয়ামে আমলকির মোরব্বা রেখে দিন।
এই মোরব্বা মাস ছয়েক রেখে খাওয়া যাবে। মুখসুদ্ধি হিসেবেও এই টক-ঝাল-মিষ্টি মোরব্বার স্বাদ অনবদ্য।
সূত্র : এই সময়
Leave a Reply