শুধু ছোটবেলায় নয়, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও নানা ধরনের খারাপ অভ্যাস বা আসক্তি দেখা যায়—যেমন দাঁত কামড়ানো, আঙুল চোষা, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, ধূমপান বা মদ্যপানের প্রবণতা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব অভ্যাসের তালিকায় নতুন নতুন আসক্তিও যুক্ত হয়। অনেক সময় এসব আচরণ দৈনন্দিন জীবনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে মনোবিদদের মতে, কিছু মনস্তাত্ত্বিক কৌশল মেনে চললে ধীরে ধীরে এই বদভ্যাসগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
ডোপামিনের ভূমিকা
খারাপ অভ্যাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ডোপামিন নামক ‘হ্যাপি হরমোন’, যা মস্তিষ্কে আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে। ধূমপান, অতিরিক্ত খাওয়া কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করার সময় ডোপামিনের মাত্রা বাড়ে, ফলে এগুলো করতে ভালো লাগে। কিন্তু যখন কেউ এসব আচরণ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চান, তখন মস্তিষ্ক সেই ডোপামিনের অভাব অনুভব করে এবং আবার সেই অভ্যাসের প্রতি টানে। এ কারণেই বদভ্যাস ত্যাগ কঠিন হয়ে পড়ে।
বদভ্যাস ছাড়ার জন্য প্রথম পদক্ষেপ : কারণ খোঁজা
২০১৩ সালে জার্নাল অব বিহেভেরিয়াল মেডিসিন এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, কেউ যদি নিজে বোঝেন কেন একটি খারাপ অভ্যাস ছাড়তে হবে এবং তা ছাড়লে কী কী উপকার হতে পারে। তাহলে অভ্যাস পরিবর্তনের পথ অনেকটাই সহজ হয়। নিজের কারণগুলোকে লিখে রাখলে, প্রলোভনের মুহূর্তে তা মনকে সংযত রাখতে সাহায্য করে।
নতুন অভ্যাস তৈরি করা জরুরি
হঠাৎ করে পুরনো অভ্যাস ছাড়লে ডোপামিনের ঘাটতির কারণে খারাপ লাগা, অবসাদ, অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
তাই বদভ্যাসের জায়গায় নতুন ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি করাই শ্রেয়। গবেষণায় বলা হয়, একটি নতুন অভ্যাস গড়ে তুলতে ১৮ থেকে ২৫৪ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। নিয়মিত চর্চার মাধ্যমেই এটি সম্ভব।
মাইন্ডফুলনেস বা মননশীলতা অনুশীলন
বর্তমান সময়ের আরেক কার্যকর উপায় হলো ‘মাইন্ডফুলনেস’ অনুশীলন। এটি এমন এক মানসিক প্রশিক্ষণ, যা ব্যক্তিকে বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগী হতে সাহায্য করে।
উদাহরণস্বরূপ, মাইন্ডফুল ইটিং—খাওয়ার সময় শুধু খাওয়ার দিকেই মনোযোগ রাখা। এমন অনুশীলন অভ্যাস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায়, এবং বুঝিয়ে দেয়, সেই আচরণ আসলে কোনো উপকার করছে না। ফলে তা ত্যাগ করাও সহজ হয়ে ওঠে।
বদভ্যাস ত্যাগ করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। মস্তিষ্কের প্রক্রিয়া বোঝা, নিজের অভ্যাসগুলোকে বিশ্লেষণ করা ও ধীরে ধীরে নতুন অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে যে কেউ এই চক্র ভাঙতে পারেন। প্রয়োজন শুধু ধৈর্য, সচেতনতা ও নিয়মিত চর্চা।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা
Leave a Reply