আমাদের আশপাশে এমন অনেক কিছুই আছে, যা আমরা ফেলনা হিসেবে ভাবি। কিন্তু এসবেরও রয়েছে নানা উপকারিতা। তেমনই একটি ফল আইস অ্যাপল বা তালের শাঁস। গ্রামবাংলার রাস্তার কোণে কোণে ফলে থাকা এই ফলকে আমরা অবহেলা করে খাই না।
এই ফলের কী গুণ, তা নিয়েই আজকের প্রতিবেদন।
তালের শাঁস প্রাকৃতিকভাবে শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে। কচি তালের শাঁস দেখতে কিছুটা স্বচ্ছ বা অর্ধস্বচ্ছ হয়, যা দেখতে বরফের টুকরোর মতো। আবার শাঁসের ভেতরে থাকা মিষ্টি, সতেজ জলীয় অংশ তৃষ্ণা মেটায় এবং শরীরকে ঠাণ্ডা করে, যা বরফের শীতলতাকে মনে করিয়ে দেয়।
এই কারণেই ব্রিটিশরা এই ফলের নাম দেয় আইস অ্যাপল। গ্রীষ্মকালে এই ফল খাওয়া শরীরের পক্ষে খুবই উপকারী। কী উপকারে আসে এই ফল, জেনে নিন—
শরীরকে ঠাণ্ডা ও হাইড্রেটেড রাখে
তালের শাঁসে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে (প্রায় ৯০%)। এটি গরমে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা রোধ করে এবং শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
পাশাপাশি প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট যেমন পটাশিয়াম সরবরাহ করে। এর ফলে ঘামের সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়া লবণের ঘাটতি পূরণ হয়।
কম ক্যালরি ও পুষ্টিগুণে ভরপুর
তালের শাঁসে ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম, ফলে ওজন বাড়ার ভয় নেই। আবার এটি ভিটামিন (যেমন ভিটামিন সি, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স) এবং খনিজ পদার্থে (যেমন পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, জিঙ্ক) ভরপুর।
হজমে সহায়তা করে
তালের শাঁস হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে।
এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং এসিডিটি বা পেটের সমস্যা কমাতে সহায়তা করে।
শক্তি যোগায়
তালের শাঁসে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা শরীরকে দ্রুত শক্তি যোগায় এবং ক্লান্তি ও দুর্বলতা কাটাতে সাহায্য করে। গরমে এটি একটি চমৎকার এনার্জি বুস্টার হিসেবে কাজ করে।
ত্বকের জন্য উপকারী
এর শীতল প্রভাব ও পুষ্টিগুণ ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। গরমে হওয়া চুলকানি, ঘামাচি বা ত্বকের অন্যান্য জ্বালাপোড়া কমাতে তালের শাঁস খাওয়া বা বাহ্যিকভাবে ত্বকে লাগানো যেতে পারে। এটি ত্বককে আর্দ্র রাখতেও সাহায্য করে।
সূত্র : আজকাল
Leave a Reply