বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক চিন্তা ও নীতিনির্ধারণ বিষয়ক বই ‘তারেক রহমান পলিটিক্স অ্যান্ড পলিসিস ইন কনটেম্পোরারি বাংলাদেশ’এর প্রকাশনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়ে।
অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি আয়োজনে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আমেরিকা প্রবাসী জয়নুল আবেদীনের লেখা বইটিতে তারেক রহমানের বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে ।
বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ড. শহিদুল আলম বলেন, তারেক রহমানের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে জনগণের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতা—এই দুটি বিষয়কে তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বৃটিশ কূটনীতিক স্যার পিটার হিপ বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য ও কূটনৈতিক প্রজ্ঞা অত্যন্ত জরুরি।
আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন মিডলসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড. মানজিদা আহামেদ ও সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন।
ড. মানজিদা আহামেদ বলেন, তারেক রহমানের সংস্কারমুখী নেতৃত্বই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আশা জাগায়। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, তারেক রহমানের ৩১ দফা সংস্কার পরিকল্পনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে বলে ।
মিডলসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র লেকচারার ড. মানজিদা আহমেদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও দূরদৃষ্টি নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, তারেক রহমান দীর্ঘদিন নির্বাসিত অবস্থায় থেকেও দলের তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত আছেন এবং দেশের অর্থনীতি, টেকসই উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। তার লক্ষ্য বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর ও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করা।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সমতার সমাজ গড়তে চান—যেখানে থাকবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার। তিনি বলেন, তারেক রহমান ইতিমধ্যেই দেশের পুনর্গঠনের জন্য ৩১ দফা সংস্কার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন, যা একটি নতুন, গণতান্ত্রিক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপরেখা।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন যে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে অ্যামাজন, ইবে প্রভৃতি বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য। ড. মানজিদা আহমেদ তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, তারেক রহমানের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, বরং “ন্যায়, স্বাধীনতা ও অগ্রগতি”-নির্ভর এক জাতি গঠনের অঙ্গীকার।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আহমেদ মুহতাদি ও সাইমুর মুজিব রহমান। শেষে বক্তারা বইটির মাধ্যমে তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভাবনা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
Leave a Reply