চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই কিংবা কাবাব―যেকোনো ধরনের সুস্বাদু ভাজাপোড়া এখন নামমাত্র তেলে তৈরি করা যায়। তাপমাত্রা ঠিক করে সময় নির্ধারণ করে সুইচ অন করলেই হয়ে যায়।
এই সহজ কাজটি করে দেয় এয়ার ফ্রায়ার। এতে ভাজাপোড়া যেমন সহজ, একইভাবে খাবার পুড়ে যাওয়ার ভয় নেই। খাবার নরম ও স্বাস্থ্যকর হয়।
সাম্প্রতিক এয়ার ফ্রায়ারের ব্যবহার বেশ বেড়েছে।
একই সঙ্গে এতে তৈরি করা খাবারের পুষ্টিগুণ নিয়েও অনেকে ইতিবাচক কথা বলছেন। তবে এরই মধ্যে কেউ কেউ গ্যাস ওভেনে দীর্ঘকালীন রান্না ও এয়ার ফ্রায়ারে রান্না নিয়ে তুলনা করছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠেছে, ওভেন নাকি এয়ার ফ্রায়ার, কোনটি ভালো?
এটি এমন একটি ইলেকট্রিক ডিভাইস, এতে গরম বাতাসের প্রভাবে রান্না হয়। সরাসরি আগুনে রান্না না হলেও খেতে খারাপ না।
সব ধরনের ফাস্টফুড অল্প তেলে তৈরি করা যায় এবং তা মচমচে ও ভেতরে নরম থাকে। শুধু ভাজাপোড়া নয়, সব ধরনের রান্নাই অল্প তেলে করা যায়।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ব্যাপারে পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক বলেন, তেলের পরিমাণ কম থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবে ভাজাপোড়ার ক্যালোরি কম হয়। আবার কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এয়ার ফ্রায়ারে সবজি রান্না করলে তাতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বজায় থাকে।
গ্যাস ওভেনে রান্না
গ্যাস ওভেনে রান্নাও বেশ প্রচলিত।
মসলা দিয়ে কষিয়ে বা ভাঁপিয়ে বা ভাজা করে রান্না করা যায়। তবে এভাবে রান্না করলেই যে খাবারের গুণগত মান কিংবা পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়, তা ঠিক নয়। বরং, খাবারের পুষ্টিগুণ বজায় থাকা নির্ভর করে রান্নার প্রক্রিয়া ও তাপমাত্রার ওপর। আপনি যদি সবজি ভাঁপিয়ে নিয়ে রান্না করেন, তাহলে ভিটামিন সি পাওয়া যায়, আবার একই সবজি পানিতে ফুটিয়ে নিলে তা থেকে ভিটামিন সি-এর পরিমাণ হ্রাস পায়। কারণ, ভিটামিন সহজেই পানিতে দ্রবীভূত হয়। ফলে তা পানিতে সেদ্ধ করলে পানির সঙ্গে পুষ্টি উপাদান বের হয়ে যায়।
এ ছাড়া ব্রকোলি, পালংশাক সঠিক প্রক্রিয়ায় রান্না করা গেলে এতে বিদ্যমান ভিটামিন ই-এর মাত্রা বৃদ্ধি পায়। বিপরীতে গাজরের মতো সবজি রান্না করা হলে ভিটামিনের পরিমাণ কিছুটা হ্রাস পায়।
রান্নার ধরন গুরুত্বপূর্ণ
গ্যাস ওভেন ও এয়ার ফ্রায়ার, দুটিতেই সঠিক প্রক্রিয়ায় রান্না করলে পুষ্টিগুণ বজায় রাখা সম্ভব। পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক বলেন, কোন পাত্রে রান্না হচ্ছে তার থেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রান্নার ধরন। এয়ার ফ্রায়ারে স্বল্প সময়ে রান্না হয়। সময় কম লাগার কারণে কিছু ভিটামিন খাবারে যথাযথ থাকে। ছাঁকা তেলে ভাজা হলে সবজির পুষ্টি উপাদান হ্রাস পায়, যা সাধারণত এয়ার ফ্রায়ারে সম্ভব হয় না।
এ ছাড়া গ্যাস ওভেনে রান্নার ক্ষেত্রে আগুনের আঁচ সমান মাত্রায় পাওয়া যায়। এ কারণে রোস্ট বা রান্না সবসময় বেশ ভালো হয়ে থাকে। যদিও এতে সময় কিছুটা বেশি লাগে। এ কারণে কিছু ভিটামিনের মাত্রা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু প্রোটিন, খনিজ, ফাইবারের মতো প্রয়োজনীয় উপাদান নষ্ট হয় না। পুষ্টিগুণ প্রায় বজায় থাকে। তবে, খাবারের পুষ্টিগুণ বজায় রাখার জন্য সবসময় কম আঁচে, কম তেলে ও কম সময়ে রান্না করা উত্তম।
Leave a Reply