গতকাল আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন নাসুম আহমেদ। তার অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের কল্যাণে এশিয়া কাপের সুপার ফোরে ওঠার আশা এখনো টিকে আছে।
এদিন আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১০ ওভারে ১ উইকেটে ৮৭ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। তখন মনে হয়েছি স্কোর ২০০ ছুঁই ছুঁই হবে। কিন্তু পরের ১০ ওভারে বাংলাদেশ ৪ উইকেট হারিয়ে তুলেছে মাত্র ৬৭ রান। শেষ ১২টি বলের মধ্যে ৬টি ‘ডট’। এই দুই ওভারে রান উঠেছে ১৫, উইকেট পড়েছে ১টি।
টি-টোয়েন্টিতে নতুন বলে ডেলিভারিগুলো স্টাম্প বরাবর রাখতে নাসুম আহমেদকে ইনিংসের প্রথম ওভারে বোলিং করতে দেওয়া হয়। বোলিংয়ে এসেই আফগানিস্তানের ইনিংসের প্রথম বলে উইকেট তুলে নেন নাসুম। সাদিকুল্লাহ আতাল আড়াআড়ি খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন।
নাসুম নিজের তৃতীয় ওভারে ২ রান খরচ করে শিকার করেন আরেক উইকেট। এবার তার শিকার ইব্রাহিম জাদরান। আফগানিস্তানের স্কোর সে সময় ৫ ওভারে ২ উইকেটে ২০। নাসুমের বোলিং বিশ্লেষণ ৩-১-৭-২!
ম্যাচে হেরে যাওয়ার পর আফগানিস্তান অধিনায়ক রশিদ খান বলেছেন, আবুধাবির উইকেট তার কাছে ‘১৬০-১৭০ রানে’র মনে হয়েছে। রশিদের কথা অনুযায়ী, বাংলাদেশের যত রান ঘাটতি ছিল নতুন বলে সেটাও পুষিয়ে দেন নাসুম। আফগানিস্তান ২ উইকেটে ২৭ রানে পাওয়ার প্লে শেষ করার পর বাংলাদেশের স্কোরটা তাদের কাছে ১৭০-এর মতো লাগাই তো স্বাভাবিক!
নাসুমকে তার শেষ ওভার করাতে লিটন তাকে বোলিংয়ে এনেছেন ১৮তম ওভারে। আগের ওভারে মোস্তাফিজ ১৪ রান দেওয়ায় পাল্টা চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের দরকার ছিল ১৮ বলে ৩১। নাসুম ওই ওভারে রান দেন মাত্র ৪, রানআউট থেকে দল পায় একটি উইকেট।
নাসুমের এই চার ওভারে ২৪ বলে (ওয়াইড কিংবা নো বল নেই) ডেলিভারির মধ্যে ১৬টি ‘ডট’—যেখানে শুধু পাওয়ার প্লে-তেই ডটসংখ্যা ১৪টি!
খেলা শেষে নাসুম বলেছেন, ‘নতুন বলে বল করতে ভালো লাগে। এই চ্যালেঞ্জটা নিতে ভালোবাসি এবং অধিনায়ক যখন বললেন, আমি প্রস্তুত ছিলাম।’
নাসুম আরও বলেন, ‘ঘামের কারণে বল গ্রিপ করতে সমস্যা হচ্ছিল। কিন্তু বল স্টাম্পে রাখাই ছিল আমার লক্ষ্য।’
নাসুম প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দলের ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম বলেন, ‘এটা সুন্দর ও ইতিবাচক বিষয় যে, প্রতিবার একাদশে ফিরেই সে (নাসুম) ভূমিকা রাখে। প্রথম ওভার থেকেই সে ম্যাচের ধারা পাল্টে দিয়েছে। তার বোলিংয়ে আমরা জিতেছি।’
Leave a Reply