আগেকার দিনের বেশিরভাগ ঘরোয়া টোটকাই দারুণ কার্যকরী। সেসময়ে মানুষ তাদের অভিজ্ঞতা থেকে নানা রকম উপায় খুঁজে বের করতেন, যার বেশিরভাগের পেছনেই থাকত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি। তখন বেশিরভাগ মসলাই বাড়িতে গুঁড়া করা হতো এবং তা করার সময় অল্প পরিমাণে কাঁচা চাল মেশানো হতো।
বর্তমান সময়ে মসলা গ্রাইন্ডারে গুঁড়া করা হলেও অনেকে এখনো এই পদ্ধতি অনুসরণ করেন।
আপনি যদি এই কাজটি না করেন, তবে এর পেছনের বিজ্ঞান জেনে আপনিও শুরু করতে পারেন। চলুন, তাহলে জেনে নেওয়া যাক—
কেন চাল মেশানো হয়
বাজারে পাওয়া মসলাতে অনেক ভেজাল থাকে। তাই বাড়িতে মসলা গুঁড়া করাই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। আপনি যদি বাড়িতে মসলা গুঁড়া করেন, তবে খেয়াল করেছেন যে এতে দলা পাকিয়ে যায়।
এই সমস্যা এড়ানোর জন্যই এতে চালের দানা মেশানো হয়।
মসলা গুঁড়ো করার সময় কিছুটা আর্দ্রতা বের হয়। আপনি লক্ষ্য করেছেন যে মশলা গুঁড়ো করার সময় জার গরম হয়ে যায়। কাঁচা চাল সেই আর্দ্রতা শোষণ করে নেয়।
আপনি যদি মসলা গুঁড়া করার সময় এতে চাল মিশিয়ে দেন, তবে মসলা জারে লেগে থাকবে না এবং দলাও পাকাবে না।
এর উপকারিতা
চাল মেশানোর ফলে মসলা গুঁড়া করার সময় তাপ উৎপন্ন হয় না, ফলে মসলা পুড়ে কালোও হয় না। চালের কারণে মসলার সুগন্ধও কমে যায় না। আপনি যদি লাল মরিচ, ধনিয়া বা গরম মসলায় এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করেন, তবে মসলা একদম মিহি গুঁড়ো হবে এবং টাটকাও থাকবে। আর্দ্রতার কারণেই মসলায় ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
আর চাল সেই আর্দ্রতা শুষে নেওয়ার ফলে ছত্রাকও ধরে না।
কখন চাল মেশাবেন না
যদি গরম মসলা তৈরি করেন, তবে বেশি চাল মেশাবেন না। চাল শুধু শুকনা মসলায় মেশাবেন, ভেজা মসলায় নয়। আপনি যদি মসলা এয়ারটাইট কন্টেইনারে ভরে ফ্রিজে রাখতে চান, তবে খুব অল্প পরিমাণে চাল মেশাতে হবে।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস
Leave a Reply