মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিনের শুরুটা ভালো হয়নি টাইগারদের। দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান ও সাদমান ইসলামকে হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই লিড ছিল ৩৪ রান। সোমবার সকালে (১১ মে) খেলার শুরুতেই আঘাত হানেন পাকিস্তানি পেসাররা। প্রথমে মোহাম্মদ আব্বাসের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন মাহমুদুল হাসান। প্রথম ইনিংসে ৮ রান করা এই ওপেনার এবার করেন মাত্র ৫ রান। তখন দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫ রান।
এরপর দিনের প্রথম ওভারেই উইকেটের দেখা পান হাসান আলী। সামনে পা বাড়িয়ে খেলতে গিয়ে বাড়তি বাউন্সে ব্যাটের কানায় লেগে গালিতে দাঁড়ানো সৌদ শাকিলের হাতে ক্যাচ তুলে দেন সাদমান ইসলাম। ২২ বলে ১০ রান করে ফেরেন তিনি।
মাত্র ২৩ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর ক্রিজে যোগ দেন মমিনুল হক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
এর আগে তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ৩৪ রানের লিড নিয়ে এগিয়ে থাকে টাইগাররা।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৪১৩ রানের জবাবে ৩৬৮ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান ক্রিকেট দল। রবিবার (১০ মে) তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ৩৪ রানের লিড নিয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।
শুক্রবার শুরুর প্রথম দিনে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে ৩০১ রানে দিন শেষ করে। শনিবার দ্বিতীয় দিনে আরও ১১২ রান যোগ করলেও ইনিংস শেষ হয় ৪১৩ রানে। দলের হয়ে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ১৩০ বলে ১০১ রান। সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক খেলেন ৯১ রানের দারুণ ইনিংস, মুশফিকুর রহিম যোগ করেন ৭১ রান। লিটন দাস ৩৩ এবং তাসকিন আহমেদ ২৮ রানের কার্যকর ক্যামিও ইনিংস খেলেন।
পাকিস্তানের বোলিংয়ে মোহাম্মদ আব্বাস ৫ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল হন, আর শাহিন শাহ আফ্রিদি নেন ৩ উইকেট।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান শুরুটা করে আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে। প্রথম দিন শেষে তাদের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ১৭৯ রান। দ্বিতীয় দিন তারা আরও ১৮৯ রান যোগ করলেও শেষ পর্যন্ত ৩৬৮ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা।
পাকিস্তানের ইনিংসে উজ্জ্বল ছিলেন অভিষিক্ত ওপেনার আজান আওয়াইস। তিনি ১৬৫ বলে ১০৩ রানের দারুণ সেঞ্চুরি করেন ১৪টি বাউন্ডারিতে। আরেক অভিষিক্ত ব্যাটার আব্দুল্লাহ ফজল ৬০ রান করেন। দ্বিতীয় উইকেটে এই দুইজন গড়েন ১০৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।
তবে এরপর দ্রুত ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। অধিনায়ক শান মাসুদ ও সৌদ শাকিল ব্যর্থ হন বড় ইনিংস খেলতে। পরে মোহাম্মদ রিজওয়ান (৫৯) ও সালমান আলি আগা (৫৮) ষষ্ঠ উইকেটে ২৩০ রানের জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ে রাখলেও শেষ পর্যন্ত আর টিকতে পারেনি পাকিস্তান।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন তাইজুল ইসলামসহ স্পিনাররা, যারা মাঝের ও শেষের দিকে চাপ সৃষ্টি করে পাকিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে দেন।
প্রথম ইনিংস শেষে ২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে শুরু করে বাংলাদেশ। দিন শেষে এর সঙ্গে আরও ৭ রান যোগ করে ৩৪ রানের লিড পায় টাইগাররা।
Leave a Reply