একটি সিনেমা বানাতে ব্যয় হয়েছে ১৭ কোটি টাকা। এটা কত টাকায় আয় করতে পারে? এমন প্রশ্ন করলে আপনি হয়তো উত্তর দিবেন- একশো কোটি, দুশো কোটি, কিংবা পাঁচশো কোটি। কিন্তু এসব ধারণাকে পাল্টে দিয়েছে চীনা চলচ্চিত্র ডিয়ার ইউ।
বক্স অফিসে রীতিমতো বিস্ময় তৈরি করেছে পারিবারিক গল্পের সিনেমাটি। মাত্র ১৭ কোটি টাকা বাজেটের এই পারিবারিক নাট্যধর্মী সিনেমাটি আয় করেছে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি। হৃদয়ছোঁয়া গল্প, আবেগঘন উপস্থাপন ও শক্তিশালী অভিনয়ের কারণে এটি এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনায়।
জুনের প্রথম সপ্তাহান্তে সিনেমাটি আয় করে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। আইএমডিবির তথ্য অনুযায়ী, ছবিটির মোট আয় ইতোমধ্যে পৌঁছেছে ২৪ কোটি ৮৭ লাখ ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় তিন হাজার কোটিরও বেশি।
পরিচালক হংচুন লানের নির্মিত সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন সিটং লি, ইয়ানটং ওয়াং ও শাওকিং উ। তুলনামূলক স্বল্প বাজেটে নির্মিত হলেও ব্যতিক্রমী গল্পের কারণে অল্প সময়েই দর্শকদের মন জয় করেছে ছবিটি।
সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক বৃদ্ধা, ইয়ে শুরোউ। ঋণের চাপে জর্জরিত তার নাতি একদিন থাইল্যান্ডে পাড়ি জমায় কথিত এক বিলিয়নিয়ার দাদার খোঁজে। সেই অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় অর্ধশতাব্দী ধরে লুকিয়ে থাকা এক প্রেমের গল্প। প্রকাশ পেতে থাকে এমন এক মানুষের পরিচয়, যাকে বছরের পর বছর ধরে চিঠি লিখে গেছেন ইয়ে শুরোউ।
চলচ্চিত্রবিষয়ক সাময়িকী ভ্যারাইটি (Variety) জানিয়েছে, ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ প্রবাসী চীনাদের ঐতিহ্যবাহী চিঠি আদান-প্রদানের ইতিহাস। প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান যুগে হারিয়ে যেতে বসা সেই যোগাযোগব্যবস্থাকে ঘিরে নির্মিত গল্প দর্শকদের মধ্যে গভীর নস্টালজিয়া তৈরি করেছে। বিশেষ করে বয়স্ক দর্শকেরা নিজেদের জীবনের প্রতিফলন খুঁজে পাচ্ছেন সিনেমাটিতে।
চীনের বক্স অফিসে চলতি বছরে আয়ের প্রবৃদ্ধি কমে গেলেও *ডিয়ার ইউ* প্রমাণ করেছে, শক্তিশালী গল্পই এখনো দর্শক টানার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। ২০২৬ সালের শুরু থেকে দেশটির বক্স অফিস আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪২ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। এমন বাস্তবতায় ছবিটির সাফল্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
সমালোচকদের মতে, ডিয়ার ইউ শুধু একটি বাণিজ্যিকভাবে সফল সিনেমাই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে চীনা চলচ্চিত্রের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতারও প্রতীক। ভাষা ও সংস্কৃতির সীমা পেরিয়ে একটি ভালো গল্প যে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের দর্শকের হৃদয় ছুঁতে পারে, সেটিই আবারও প্রমাণ করেছে এই চলচ্চিত্র।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছবিটি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। দর্শকরা এর আবেগঘন কাহিনি, নির্মাণশৈলী ও অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। অনেকের মতে, ডিয়ার ইউ বিশ্বমঞ্চে চীনা চলচ্চিত্রের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
Leave a Reply