এবারের কোপা আমেরিকায় শিরোপা ধরে রাখার মিশনে রয়েছে আর্জেন্টিনা। সেই স্বপ্নপূরণে মেসি, ডি মারিয়া, স্কালোনিদের ফাইনালে ওঠার পথে বুধবার কানাডা প্রতিপক্ষ। যাদেরকে উদ্বোধনী ম্যাচে হারিয়ে আসরে টানা চার জয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে সকাল ছয়টায় মাঠে গড়াবে প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচটি।
কোপা-বিশ্বকাপ-কোপা। লিওনেল মেসি, আনহেল ডি মারিয়াদের সামনে দক্ষিণ আমেরিকার প্রথম দেশ হিসেবে টানা এই তিন শিরোপা জয়ের দুর্লভ হাতছানি। কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা দলও মরিয়া কোপায় উরুগুয়েকে টপকে রেকর্ড ১৬তম শিরোপা জিততে। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচ আর কোয়ার্টার ফাইনাল, সবগুলো জিতেই সেমিফাইনালে অপ্রতিরোধ্য আর্জেন্টিনা। সেখানে প্রতিপক্ষ আবার ফুটবলের সবকিছুতেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের কাছে অনেক পিছিয়ে থাকা কানাডা।
ফিফা র্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখা আর্জেন্টিনার আসর শুরু হয় ৪৭ ধাপ পেছনে থাকা কানাডাকে উদ্বোধনী ম্যাচে ২-০ গোলে হারিয়ে। এরপর চিলিকে ১-০ ও পেরুকে ২-০ ‘তে হারিয়ে ‘এ’ গ্রুপে টানা তিন জয়ে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনাল জেতে টাইব্রেকারে। ইকুয়েডরের বিপক্ষে ৩৫ মিনিটে লাউতারো মার্তিনেসের গোলে এগিয়ে গিয়ে যোগ করা সময়ে তা হজম করে স্কালোনির দল। টাইব্রেকারে লিওনেল মেসি প্রথম শট লক্ষ্যে রাখতে ব্যর্থ হলে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসের নৈপুণ্যে ৪-২’এ জয় পায় তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সেই অভিজ্ঞতা থেকে সেমিফাইনালে কানাডার বিপক্ষে অতি সতর্ক আর্জেন্টাইন কোচ।
আর্জেন্টাইন কোচ বলেন, ‘ভালো ফুটবল খেলছে কানাডা। ওদের দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছে, যারা প্রতিপক্ষকে যে কোনো সময় হুমকির মুখে ফেলে দিতে সক্ষম। সেটা মনে রেখেই গেম প্ল্যান সাজাবো। আশা করছি, পরিকল্পনা মতো খেলে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারবো।’
এবারের কোপা আমেরিকায় ঠিক সেরা চেহারায় নেই মেসি। এখনও কোনো গোলের দেখা পাননি। তাতে কী! তার মতো খেলোয়াড় জ্বলে উঠতে পারেন যে কোনো সময়। তাছাড়া প্রথম ম্যাচে কানাডার রক্ষণভাগের বেশ পরীক্ষা নেওয়া আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মার্তিনেসের করা দ্বিতীয় গোলে দারুণ অবদান রাখেন। চার ম্যাচে পাঁচ গোল করে দারুণ ছন্দে মার্তিনেস। তবে সেমিফাইনালে কানাডার কোচ জেসি মার্শের বিশেষ পরিকল্পনা মেসিকে নিয়ে। বলেছেন, তাকে খুব বেশি সুযোগ দেওয়ার ভুল এবার আর দেখতে চান না।
কোপায় প্রথমবার অংশ নেওয়া কানাডাও কোয়ার্টার ফাইনালে জেতে টাইব্রেকারে। গ্রুপে আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর পেরুর বিপক্ষে ১-০’তে জিতে চিলির সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করা দলটি শেষ আটে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ১৩ মিনিটে গোল করে ৬৫ মিনিটে তা হজম করে। এরপর টাইব্রেকারে জয় তাদের ৪-৩ ব্যবধানে। কোপায় গ্রুপ ম্যাচের আগে ২০১০ সালে একবারই আর্জেন্টিনার মোকাবেলা করেছে কানাডা। বুয়েন্স আয়ার্সের সেই প্রীতি ম্যাচে ৫-০’তে বিধ্বস্ত হয় তারা।
Leave a Reply