আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ ১৮ বছরের পথচলার ইতি টেনেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বুধবার (১২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই অভিনন্দন বার্তায় ভেসে যাচ্ছেন রিয়াদ। সতীর্থ ও প্রিয়জনদের স্মৃতিচারণায় জীবন্ত হয়ে উঠছে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ার।
২০০৮ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর তিন ফরম্যাটেই দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দলের প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পজিশনে ব্যাট করলেও ফিনিশার পরিচয়েই বেশি পরিচিত তিনি। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম সেঞ্চুরিও তিনিই করেছিলেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের রিয়াদের চারটি সেঞ্চুরির প্রতিটিই রিয়াদ হাঁকিয়েছেন আইসিসির মঞ্চে। ফলে অর্জনে বিশেষ একটা স্থান নিশ্চিত করে ফেলেছেন এই ৩৯ বছর বয়সী।
দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় রিয়াদ। সমর্থকদের কাছে পরিচিত ‘সাইলেন্ট কিলার’ নামে। রিয়াদের অবসরের ঘোষণায় অবশ্য কেউই সাইলেন্ট থাকতে পারছেন না। টাইগার ক্রিকেটের সাবেক এই অধিয়ায়কের বিদায়ে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি ফারুক আহমেদ।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের হয়ে সব ফরম্যাট মিলিয়ে ৪৩০ ম্যাচে ১১ হাজারের বেশি ও ১৬৬ উইকেট শিকার করা রিয়াদকে বিসিবির পক্ষে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ফারুক আহমেদ। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবির সভাপতি বলেছেন, ‘এটা বাংলাদেশ ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সবার জন্যই বিষাদের একটা মুহূর্ত। প্রায় দুই দশক মাহমুদউল্লাহ জাতীয় দলের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিল। ধারাবাহিকতা ও চাপের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসতে পারার ক্ষমতা তাকে অমূল্য এক সম্পদে পরিণত করেছিল। খেলার প্রতি তার নিবেদন ও পারফরম্যান্স ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটা মানদণ্ড তৈরি করেছে। তার লিগাসি অনুপ্রেরণা হিসেবে থেকে যাবে।’
ক্যারিয়ারজুড়ে নীরবেই নিজের কাজ করে গেছেন রিয়াদ। খুব বেশি বিতর্কে জড়াননি। দলের বিপদের মুহূর্তে ধরেছেন হাল। ফারুকের ভাষায়, ‘গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পারফর্ম করার জন্য মাহমুদউল্লাহর আলাদা একটা সুনাম ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটে। ব্যাট অথবা বল হাতে, সবচেয়ে দরকারি মুহূর্তে সে পারফর্ম করেছে। চ্যালেঞ্জিং সময়ে তার মাথা ঠান্ডা রাখার গুণ ও মাঠে নেতৃত্বগুণ তাকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম সম্মানিত ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।’
অবসরের পরের নতুন জীবনের জন্যও রিয়াদকে শুভকামনা জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি ফারুক, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে আমরা মাহমুদউল্লাহর দুর্দান্ত এক ক্যারিয়ারকে উদ্যাপন করি। একই সঙ্গে এতগুলো বছর দল ও খেলার জন্য নিবেদনের জন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা তার ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাই। এ বিষয়েও আমরা আত্মবিশ্বাসী যে তার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সমৃদ্ধ করে যাবে।’
Leave a Reply