বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তি বিনিময় ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে কৃষি ও খাদ্যপণ্য বাণিজ্য বাড়ানোসহ ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১২ বুধবার) নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনে দেশটির মিনিস্ট্রি ফর প্রাইমারি ইন্ডাস্ট্রিজ (এমপিআই) কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল নিউজিল্যান্ডের মিনিস্ট্রি ফর প্রাইমারি ইন্ডাস্ট্রিজের (এমপিআই) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়। এতে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে এমপিআইয়ের দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক প্রধান ডায়না রেইচ প্রতিনিধিত্ব করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিউজিল্যান্ডের উন্নত বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্য রপ্তানি ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উন্নয়ন ও ক্রমবর্ধমান ভোক্তা বাজারের কথা তুলে ধরে দুই দেশের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আলোচনায় কৃষি প্রযুক্তি, দুগ্ধশিল্প, কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা এবং কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্পে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের বৃহৎ ভোক্তা বাজার ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের কৃষি ও খাদ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে কৃষিজাত পণ্য, তাজা ফল, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের নিউজিল্যান্ডের বাজারে প্রবেশ সহজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে ইমপোর্ট হেলথ স্ট্যান্ডার্ডস, স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি ব্যবস্থা, পণ্যের মানের পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং সংশ্লিষ্টদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উন্নতমানের ফুড টেস্টিং ল্যাবরেটরি স্থাপন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, পেস্টিসাইডের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং ইলেকট্রনিক ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের কারিগরি সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সুসংগঠিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে যোগদানের ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের সমর্থন কামনা করা হয়। একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া আরও নির্বিঘ্ন করতে ট্রানজিশন সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দুই দেশের ব্যবসায়িক ফোরাম প্রতিষ্ঠা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে একটি টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, যোগাযোগের জন্য নির্দিষ্ট ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ এবং নিয়মিত তথ্য বিনিময়ের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল আশা প্রকাশ করে, এ সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই দেশের কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি পারস্পরিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
Leave a Reply