ওজন কমাতে চাইলেই অনেকের প্রথম লক্ষ্য থাকে অল্প সময়ের মধ্যে কয়েক কেজি ওজন ঝরিয়ে ফেলা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকা নানা ডায়েট ও দ্রুত ওজন কমানোর পরামর্শও অনেককে আকৃষ্ট করে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত ওজন কমানোর চেয়ে ধীরে ও স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানোই শরীরের জন্য বেশি নিরাপদ।
সম্প্রতি এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক সপ্তাহে ৫ কেজি ওজন কমানোর মতো দাবি অনেক সময় বাস্তবসম্মত নয়। এমন ক্ষেত্রে শরীরের চর্বির চেয়ে পানি বেশি কমে যায়।
ফলে কিছুদিন পর আবার আগের ওজনে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং পর্যাপ্ত ঘুম—এই তিনটি বিষয় দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে প্রথমেই খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়া বা না খেয়ে থাকার অভ্যাস ঠিক নয়। বরং প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফল, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনি ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে আনতে বলা হয়।
পর্যাপ্ত পানি পানও ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক সময় তৃষ্ণাকে ক্ষুধা মনে করে মানুষ অপ্রয়োজনীয় খাবার খেয়ে ফেলেন। তাই সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সুবিধা হয়।
শুধু খাদ্যাভ্যাস নয়, নিয়মিত শরীরচর্চাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিন হাঁটা, সাইকেল চালানো বা অন্য কোনো শারীরিক ব্যায়ামের পাশাপাশি সপ্তাহে কয়েক দিন শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করলে শরীরের পেশি সুস্থ থাকে এবং বিপাকক্রিয়াও স্বাভাবিক থাকে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে এমন কিছু হরমোনের পরিবর্তন ঘটে, যা ক্ষুধা বাড়াতে পারে। ফলে ওজন কমানোর চেষ্টা ব্যাহত হতে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করাও জরুরি।
অনেকেই কয়েক কেজি ওজন কমানোর পর আগের খাদ্যাভ্যাসে ফিরে যান। এতে দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ওজন কমানোর পরও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং সক্রিয় জীবনযাপন চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানো কোনো স্বল্পমেয়াদি প্রকল্প নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি জীবনধারার অংশ। তাই দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় কঠোর ডায়েট বা অস্বাস্থ্যকর পদ্ধতির পরিবর্তে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।
Leave a Reply